কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়?

কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়? : রোযার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কিসের কারণে রোযা ভেঙ্গে যায়? এটি এমন একটি প্রশ্ন যা প্রত্যেকেরই জানা দরকার কারণ আমরা যখন জানি কিভাবে রোজা ভাঙতে হয়, তখন আমরা সেগুলি এড়িয়ে যাব। আজকের প্রবন্ধে আমরা সেই একই বিষয়ে জানবো যে কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়?

কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়?

কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়

  • রোজা অবস্থায় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খায় বা পান করলে রোজা ভেঙ্গে যায়।
  • যদি কোন রোজাদার ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে দাঁতে আটকে থাকা খাবার গিলে ফেলে বা খেয়ে ফেলে তাহলে এর দ্বারাও তার রোজা ভেঙ্গে যায়।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যায়।
  • এর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশনের কারণে রোজাও ভেঙে যায়।
  • কোন প্রকার ঔষধ খাওয়া বা পান করলে রোযা ভেঙ্গে যায়।
  • সহবাস করলেও রোজা ভেঙ্গে যায়।

উপরে আমরা বলেছি যে কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে রোজা ভঙ্গ হয়, এখন আমরা আরও জানব যে কোন কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না।

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

  • ভুলেও খাওয়া, পান করা বা জিমা (সংসর্গ) করলে রোজা ভঙ্গ হয় না, তা রোজা রোজা হোক বা নফল রোজা।
  • স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও যদি মনে না থাকে যে, আপনি রোজা রেখেছেন এবং এমন কোনো কাজ করেছেন যাতে রোজা ভেঙ্গে যায়, তাহলে এখন রোজা ভেঙ্গে যাবে, তবে এক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব নয়।
  • মাছি, ধুলাবালি, ধোঁয়া বা মেঘ নিজে থেকেই আলোতে চলে গেলে রোজা ভঙ্গ হবে না।
  • কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ বা নাক দিয়ে ধুলা বা ধোঁয়া নিঃশ্বাসে নিলে রোজা ভেঙ্গে যায়, এমনকি নাক দিয়ে ধূপ ইত্যাদির ধোঁয়া নিঃশ্বাসে নিলে রোজা ভেঙ্গে যায়। একইভাবে বিড়ি, সিগারেট ও হুক্কা সেবন করলেও রোজা ভেঙ্গে যায় এবং যে ব্যক্তি এগুলো সেবন করে সেও কাফের হতে বাধ্য।
  • ইহতিলাম (অর্থের বহিঃপ্রবাহ) না থাকলে বোসা গ্রহণে রোজা ভঙ্গ হয় না।
  • গোসল করার সময় বা কুলি করার সময় মুখে কিছু অবশিষ্ট থাকে যা থুথু দিয়ে গিলে ফেললে তাতেও রোজা ভাঙবে না।
  • কানে পানি পড়লে বা খড় দিয়ে কানে আঁচড়ালে কানের মোম লাগালে একই ধুলোবালি কানে দেওয়া হয় এবং বহুবার এমন করলেও রোজা ভাঙবে না।
  • যদি মুখে বা দাঁতে অল্প পরিমাণ পদার্থ থেকে যায় এবং থুথু দিয়ে নেমে আসে অথবা দাঁত থেকে রক্ত ​​বের হয়ে যায় এবং মুখ থেকে না নেমে আসে তাহলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।
  • ভুলবশত খাবার খেয়ে ফেললে মনে পড়ার সাথে সাথেই টুকরোটা খুলে ফেলে অথবা সকাল সাদিকের আগে খেয়ে ফেলে এবং সকালে থুথু ফেলে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যায় না, কিন্তু গিলে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই।
  • ইহতিলাম (রাত্রি পতন) হওয়ার কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না।
  • গীবত, যাকে অত্যন্ত কঠিন গুনাহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কোরান মাজিদে গীবতকারী ব্যক্তির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মত এবং হাদিসে গীবতকে যিনার চেয়ে শক্তিশালী বলা হয়েছে এবং গীবত করার কারণে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু রোজা রাখলে রোজা ভাঙ্গে না।
  • তেল বা সুরমা লাগালে রোজা ভাঙে না, তেল বা সুরমার আনন্দ হালকাভাবে অনুভব করলেও, থুতুতে সুরমার রং দেখা গেলেও রোজা ভাঙে না।
  • আঁচিল বা তিল কিছু চিবিয়ে থুথু দিয়ে নামলে রোজা ভেঙ্গে যাবে না, তবে হালকাভাবে উপভোগ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

উপসংহার

তো বন্ধুরা আশাকরছি যে আপনার আমাদের কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়? এই আর্টিকেলে টি পছন্দ হয়েছে। আপনার যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধু এবং প্রিয়জন দেড় সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!

Leave a Comment